মিল মালিকদের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদনের পর পাইকারি বাজারে বাড়তে শুরু করেছে ভোজ্যতেলের দাম। গত কয়েক দিনে পাম অয়েল ও সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে মণপ্রতি (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) ৩০০ টাকা। দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগে ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১৪ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন ভোজ্যতেল মিল মালিকরা। তাদের এ প্রস্তাব বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর তা ১৬ এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়। এ সময় বোতলজাত সয়াবিনের পাশাপাশি পাম অয়েলের দাম লিটারপ্রতি ১২ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, গত ১৪ এপ্রিল থেকে পাইকারি বাজারগুলোয় সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম বাড়তে শুরু করে। এর প্রভাবে খোলা ভোজ্যতেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি লিটার সয়াবিন তেল বর্তমানে ১৮৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আগে যা ছিল ১৭৫ টাকা। এ সময় পাঁচ লিটার সয়াবিন তেলের বোতলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯২২ টাকা, আগে যা ছিল ৮৫২ টাকা। এর আগে খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েল লিটারপ্রতি ১৫৭ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ১৬৯ টাকায় পৌঁছেছে।
জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জের ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এত দিন মূল্যবৃদ্ধি রোধ করতে সরকার ভোজ্যতেল আমদানি, পরিশোধন ও বাজারজাতে ওপর শুল্ক ছাড় দিয়েছিল। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এর সময়সীমা আর বর্ধিত করেনি। এ কারণে বিশ্ববাজারে উল্লেখযোগ্য হারে না বাড়লেও দেশে তা ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
এদিকে কয়েক দিন আগেও মণপ্রতি পাম অয়েল লেনদেন হয়েছিল (এসও-সাপ্লাই অর্ডার) ৫ হাজার ৬০০ টাকার মধ্যে। বর্তমানে তা বেড়ে ৫ হাজার ৯০০ টাকায় পৌঁছেছে। এ সময় খোলা সয়াবিন তেলের এসও ছিল মণপ্রতি ৬ হাজার ৫০০ টাকা, আগে যা ছিল ৬ হাজার ২০০ টাকা। এছাড়া বাজারে সরবরাহ শুরুর পর এসও পর্যায়ে সংগ্রহ করা পাম অয়েল ও সয়াবিন তেলের মণপ্রতি মূল্য আরো ১৫০-২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি গুণতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, সরকার শুল্ক আরোপ করলেও বিশ্ববাজারের সঙ্গে দেশের ভোজ্যতেলের দামের সমন্বয় নেই। বর্তমান বুকিং দর অনুযায়ী, মিল মালিকদের আমদানি খরচও অনেক কম। পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, দীর্ঘদিন মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ না পাওয়ায় বিশ্ববাজারে নিম্নমুখী থাকলেও শুল্ক ইস্যুকে সামনে রেখে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হয়েছে।